
Renix Care is committed to provide high-quality Unani Medicine & Natural products at competitive prices backed by excellent customer service so you can trust us with your purchase decisions every time!
Created : August 13, 2024

টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Type 2 Diabetes) হলো এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin Resistance) বলা হয়।
এর ফলে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে এর নিয়ন্ত্রণ না করা হলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি এবং চোখের নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
আরো পড়ুন:
১। ডায়াবেটিস কি ও কেন হয়? প্রাকৃতিক ভাবে প্রতিরোধের উপায় জানুন
২। টাইপ ১ ডায়াবেটিস এর কারণ, লক্ষণ এবং জীবনযাপনের কৌশল
অনেকের ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবেটিসের লক্ষণ স্পষ্ট হয় না। তবে নিচে উল্লেখিত সাধারণ লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
রক্তে শর্করার মাত্রা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত নিচের পরীক্ষাগুলো (Diabetes Tests) করার পরামর্শ দেন:
| বিষয় |
টাইপ ১ ডায়াবেটিস |
টাইপ ২ ডায়াবেটিস |
| মূল কারণ |
অটোইমিউন সমস্যা (ইনসুলিন তৈরিই হয় না) |
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (ইনসুলিন কাজ করে না) |
| আক্রান্তের বয়স |
সাধারণত শিশু ও কম বয়সে হয় |
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যায় |
| ইনসুলিন গ্রহণ |
প্রতিদিন ইনসুলিন নেওয়া বাধ্যতামূলক |
প্রথম দিকে ওষুধ ও জীবনযাত্রা, পরে ইনসুলিন লাগতে পারে |
| প্রতিরোধ |
এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় |
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব |
সঠিক ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই হলো ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি।
২. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা (Brish Walking), সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে দারুণ সহায়তা করে।
৩. ওজন ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
শরীরের ওজন ৫-৭% কমাতে পারলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয়ে যায়। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা, ধ্যান এবং প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুমানো জরুরি।
|
যা খাওয়া উপকারী |
যা পরিহার করা উচিত |
|
সবুজ শাকসবজি ও সালাদ |
চিনি, গুড়, মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার |
|
ডাল, লাল চালের ভাত ও ওটস |
সফট ড্রিংকস ও প্যাকেটজাত জুস |
|
লো-গ্লাইসেমিক ফল (যেমন: আপেল, পেয়ারা) |
প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার |
|
বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ |
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড |
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে মেথি, দারুচিনি, কালোজিরা এবং গুড়মার (Gymnema sylvestre) এর মতো প্রাকৃতিক উপাদান রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ভেষজ চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইউনানী প্রস্তুতি যেমন- আর-ডাইম্যান এবং রেনিক্স ডাইসেট ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই উপাদানগুলো শরীরের মেটাবলিজম ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো কখনোই চিকিৎসকের মূল ওষুধের বিকল্প নয়। যেকোনো ভেষজ বা ইউনানী পণ্য সেবনের আগে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যেমন:
প্রশ্ন: টাইপ ২ ডায়াবেটিস কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?
উত্তর: বর্তমানে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী নিরাময় বা কিউর নেই। তবে সঠিক ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।
প্রশ্ন: ডায়াবেটিস রোগী কি ফল খেতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, পারেন। তবে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Low GI) যুক্ত ফল যেমন- পেয়ারা, আমলকী, জাম্বুরা, আপেল ইত্যাদি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। মিষ্টি ফল (যেমন- আম, কাঁঠাল) এড়িয়ে চলাই ভালো।
প্রশ্ন: প্রতিদিন কতটুকু হাঁটলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে?
উত্তর: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট বা প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটলে শরীরের ইনসুলিন কার্যকরভাবে কাজ শুরু করে এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে আসে।
Comments