
Renix Care is committed to provide high-quality Unani Medicine & Natural products at competitive prices backed by excellent customer service so you can trust us with your purchase decisions every time!
Created : August 11, 2024

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে যে কয়েকটি রোগ মহামারী আকার ধারণ করেছে, তার মধ্যে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ অন্যতম। একটা সময় ধারণা করা হতো এটি কেবল বয়স্কদের রোগ, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তরুণ এমনকি শিশুদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
অনেকেই জানতে চান ডায়াবেটিস কেন হয়? কিংবা এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী? আজকের আর্টিকেলে আমরা ডায়াবেটিসের মূল কারণ, এর বিভিন্ন প্রকার, লক্ষণ এবং প্রাকৃতিকভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বৈজ্ঞানিক ও ঘরোয়া উপায়গুলো সহজ ভাষায় আলোচনা করব।
সহজ কথায়, আমাদের শরীরে ইনসুলিন (Insulin) নামের হরমোনের ঘাটতি হলে বা উৎপাদিত ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে শর্করার বা সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এই অবস্থাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়াবেটিস বলা হয়।
আমরা যা খাই, তা ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোন এই গ্লুকোজকে আমাদের শরীরের কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, যা থেকে আমরা শক্তি পাই। কিন্তু ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে গ্লুকোজ কোষে না ঢুকে রক্তে জমতে শুরু করে।

ডায়াবেটিস মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে:
১. টাইপ-১ ডায়াবেটিস (Type 1 Diabetes): এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীরে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। এটি সাধারণত শিশু বা অল্প বয়সীদের বেশি হয় এবং রোগীদের নিয়মিত ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
২. টাইপ-২ ডায়াবেটিস (Type 2 Diabetes): এটি সবচেয়ে সাধারণ রূপ (প্রায় ৯০% রোগী এই ক্যাটাগরির)। এক্ষেত্রে শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি হলেও তা শরীরের কোষগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না (Insulin Resistance)। স্থূলতা এবং অলস জীবনযাপন এর প্রধান কারণ।
৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes): অনেক সময় গর্ভাবস্থায় নারীদের রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। সন্তান প্রসবের পর সাধারণত এটি ঠিক হয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে যায়।
ডায়াবেটিস হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নেই। তবে নিচের বিষয়গুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:

অনেক সময় ডায়াবেটিস শরীরে বাসা বাঁধলেও মানুষ তা বুঝতে পারে না। তাই নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত সচেতন হওয়া উচিত:
ডায়াবেটিস নির্ণয় বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রক্তে সুগারের মাত্রা জানা জরুরি। নিচে একটি সাধারণ চার্ট দেওয়া হলো (ফাস্টিং বা খালি পেটে এবং খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর):

নোট: সুনির্দিষ্ট ফলাফলের জন্য ল্যাবরেটরিতে HbA1c (বিগত ৩ মাসের গড় সুগার) পরীক্ষা করা সবচেয়ে উত্তম। HbA1c ৬.৫% বা তার বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস বলা হয়।
ডায়াবেটিস একবার হলে তা চিরতরে নিরাময় করা সম্ভব নয়, তবে সঠিক লাইফস্টাইল এবং ঘরোয়া কিছু নিয়মের মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা (Brisk Walking) বা হালকা ব্যায়াম করুন। এটি শরীরের ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়ায়, ফলে কোষগুলো রক্ত থেকে সহজেই সুগার গ্রহণ করতে পারে।
২. খাবারে কার্বোহাইড্রেট ও চিনির পরিমাণ কমানো
ভাত, রুটি, আলু এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার সরাসরি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই রিফাইন কার্বোহাইড্রেটের বদলে জটিল কার্বোহাইড্রেট (যেমন: লাল চালের ভাত, ওটস, লাল আটার রুটি) খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৩. পর্যাপ্ত ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং বীজে প্রচুর ফাইবার থাকে। ফাইবার খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে ধীর করে, যার ফলে রক্তে হুট করে সুগারের মাত্রা বাড়ে না।
৪. মেথি দানার পানি পান করা
মেথিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ফাইবার, যা রক্তে সুগার শোষণের গতি ধীর করে। এক চামচ মেথি দানা রাতে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
৫. করলা বা উচ্ছে রস
করলায় রয়েছে 'Charantin' এবং 'Polypeptide-p' নামক প্রাকৃতিক উপাদান, যা ইনসুলিনের মতো রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ২-৩ দিন সকালে করলার জুস পানের অভ্যাস করতে পারেন।
৬. দারুচিনির ব্যবহার
গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন রান্নায় বা চায়ের সাথে এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়া উপকারী।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান করা
পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত সুগার শরীর থেকে বের করে দিতে পারে। দৈনিক অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন।
৮. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ডায়াবেটিসের শত্রু। স্ট্রেস কমাতে ইয়োগা, মেডিটেশন বা পছন্দের কোনো কাজ করতে পারেন।
৯. গ্রিন টি ও ভেষজ উপাদানের সাহায্য নেওয়া
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া অভিজ্ঞ ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক ভেষজ উপাদান গ্রহণ করতে পারেন।
১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
আপনার ওজনের অতিরিক্ত মাত্র ৭% কমাতে পারলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৫৮% পর্যন্ত কমে যায়। তাই বিএমআই (BMI) অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়াবেটিস রোগীদের নিচের খাবারগুলো কঠোরভাবে এড়িয়ে চলা উচিত:
ডায়াবেটিস কোনো মরণব্যাধি নয়, বরং এটি একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ। সচেতনতা, সুষম খাদ্য তালিকা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ভেষজ বা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়েও একটি সুস্থ, দীর্ঘ এবং স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করা সম্ভব। আজই আপনার অলস অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং সুস্থ জীবনযাত্রার দিকে পা বাড়ান।
মেডিকেল ডিসক্লেমার: এই আর্টিকেলে প্রদত্ত তথ্যসমূহ কেবল সাধারণ সচেতনতার উদ্দেশ্যে লিখিত। যেকোনো ঘরোয়া উপায় বা ভেষজ উপাদান দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই একজন সার্টিফাইড চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
Visit Our Unani Medicine Shop: Unani Shop | Diabetes Medicine | Unani Skin Care & Hair Care | Health & Wellness | Weight Gainer Supplement | Sexual Wellness
Comments